বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, "এটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক, তবে নাটোরের বড়াইগ্রাম ট্রাজেডির পর নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আমরা এবার আরো জোরেশোরে অভিযান পরিচালনা করছি, আশা করি এ অভিযানে দুর্ঘটনারোধে সচেতনতা বাড়বে, আর সড়কে ক্রটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ হবে।"
ফিটনেসবিহীন মোটরযান ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর প্রাক্কালে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীসহ সারা দেশে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র।
একদিকে, রাজধানীতে প্রচারণার পাশাপাশি বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত কারওয়ানবাজার, গাবতলী, কাকলী মোড় ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত শাহবাগ, কলেজগেট, বাবুবাজার এলাকায় শুরু করে অভিযান।
বিআরটিএ'র তথ্যমতে, দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ২১ লাখ ৫ হাজার ১শ'৪০টি। মোটরসাইকেল বাদে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৭শ' ৩৫টিতে।
সড়ক মহাসড়কে চলাচলকারী এসব যানবাহনের মধ্যে ৩৩ ভাগেরই নেই কোন ফিটনেস সনদ। ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা দাড়িঁয়েছে তিন লাখ ১৩ হাজার। এর মধ্যে খোদ রাজধানীতেই ফিটনেসবিহীন চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা ৯৩ হাজার ৬শ' ৪টি। যে কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছাড়াও বড় অংকের রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
এসবের বাইরে সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন, করিমন, ভটভটিসহ বিভিন্ন শ্রেণির মোটরযান। অন্যদিকে মোটরযান চালান এমন চালকদের মধ্যে সাড়ে ছয় লাখের নেই কোন বৈধ লাইসেন্স। এতে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। পাশাপাশি বিআরটিএ'র রয়েছে জনবল সংকট।
১৩টি ম্যাজিস্ট্রেট পদের বিপরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানোর জন্যে ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন মাত্র তিনজন।

No comments:
Post a Comment