Pages

Thursday, October 30, 2014

এগ নুডুলস-এ ডিম নাই, ভিনেগারে টয়লেটের পানি, কেমিস্টের শিক্ষাগত যোগ্যতা ২য় শ্রেনী পাশ !

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশার ভেজাল বিরোধী অভিযানে আরো একটি বিএসটিআই স্বীকৃত জনপ্রিয় খাবার প্রতিষ্ঠান  এগ নুডলস এর জালিয়াতি আর প্রতারণার রহস্য উম্মোচন করল । ডিমের পুষ্টিমান নুডলসের গায়ে লিখা থাকলেও একেবারেই কোন ডিমের অস্তিত্ব  ছাড়াই  তৈরি করা হচ্ছিল এগ নুডলস। অার টয়লেটের কলের পানি দিয়ে বানানো হচ্ছিল ডিস্টিল্ড হোয়াইট ভিনেগার। এরপর রঙচঙে মোড়ক দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে সেগুলো বাজারজাত করে আসছিল রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ক্রেস্পকো ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অবশেষে এই প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি ধরা পড়ে গেছে র‌্যাবের হাতে।
বুধবার র‌্যাব-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে হানা দিয়ে কারখানাটি সিলগালা করে দেয়।
এই ঘটনার মূল হোতা কারখানার মালিক আমিনুল ইসলাম ও ম্যানেজার কোরবান আলীকে দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা বাংলা সাংবাদিকদের  জানান, রাজধানীর উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা স্বরণী এলাকার ৩৯৩ নম্বর বাড়িতে ক্রেস্পকো ইন্ডাষ্ট্রিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন থেকে ভেজাল এগ নুডলস ও ভিনেগার তৈরি করে আসছিলো। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা বুধবার বিকালে সেখানে ঝটিকা অভিযান চালান।
আনোয়ার পাশা জানান, সেখানে অভিযান চালানোর পর তারা দেখতে পান, ডিম ছাড়াই ‘লিউং হুং চাইনিজ এগ নুডলস’ ও ‘টয়লেটের কলের পানি দিয়ে ‘ডিস্টিল্ড হোয়াইট ভিনেগার’ তৈরি করা হচ্ছিল। ৭৪ কেজি ময়দার সঙ্গে এক কেজি লবন ও টয়লেটের কল থেকে পানি নিয়ে নুডলসের মন্ড তৈরি করা হচ্ছিল। অভিযুক্তরা জানান, পরে সেই নুডলস শুকিয়ে সুদৃশ্য মোড়কে বাজারজাত করা হয়। একইস্থানেই টয়লেটের পানি দিয়েই বানানো হচ্ছিল সিরকা, যা ‘ডিস্টিল্ড হোয়াইট ভিনেগার’ নামে বাজারজাত করে আসছিল তারা।
মালিক আমিনুল ইসলামের ভাই কোরবান আলী মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। তিনিই ওই ‘ডিস্টিল্ড হোয়াইট ভিনেগার’-এর কেমিস্ট হিসেবে কাজ করেন। কিভাবে ভিনেগার তৈরি করেন সেটাও ভ্রাম্যমাণ আদালতকে দেখানো হয়। এক লিটার এসিটিক এসিডের সঙ্গে টয়লেটের কল থেকে নেওয়া ২৫ লিটার পানি মিশিয়ে সুদৃশ্য বোতলে ভরে বাজারজাত করা হয় বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানান কোরবান আলী।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে অভিযানে ছিলেন, এডিশনাল এসপি আসাদুজ্জামান, এএসপি আকরামুল হাসান ও বিএসটিআই-এর প্রতিনিধি মনির হোসেনের নেতৃত্বে র‌্যাব-১ এর একটি দল।

No comments:

Post a Comment